শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন

শামীম আহম্মেদ:
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া মহসড়কে স্কুল পড়–য়া দুইসহোদর ভাইবোন ট্রাকের চাপায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং ঘাতক ট্রাক ড্রাইভারকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে মানব বন্ধন অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে এই মানব বন্ধন কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়। এই মানব বন্ধন কর্মসুচীতে তেঘরিয়া ,বাস্তা ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শতশত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকার শতশত মানুষ অংশ গ্রহন করেন। দীর্ঘ এক কিলোমিটার মানব বন্ধন কর্মসুচীটি সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় শেষ হয়। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপুর্নভাবে মানব বন্ধন কর্মসুচীটি শেষ হয়। মানব বন্ধন কর্মসুচীতে অংশগ্রহনকারী স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘৈর হাইস্কুল,পশ্চিমদী মডেল হাইস্কুল, বাঘৈর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,কসমো পলিটন ল্যাবরোটারী স্কুল এন্ড কলেজ,বাঘৈর ইসলামিয়া আলীয়া মাদ্রাসা, মঈনিয়া ইসলামীয়া আলীয়া মাদ্রাসা,বাঘৈর ছাত্রবন্ধু কিন্ডার গার্টেন হাইস্কুল, বাৈেগর নিউ মডেল একাডেমি,বাঘৈর দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও অক্সফোর্ড কেজি স্কুল। মানব বন্ধন কর্মসুচীতে অংশ গ্রহনকারীরা খুব দ্রæত ঘাতক ট্রাক ড্রাইভারকে গ্রেফতার করে তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি প্রদান করার ও নিরাপদ সড়কের দাবী জানান। নিহত দুই ভাইবোনের বাবা সামুদ্দিন ডালিম বলেন,আমার চোখের সামনেই রডবোঝাই ঘাতক ট্রাকটি চাপা দিয়ে নিমিষেই তাদের পিষ্ট করে চলে যায়। এই হৃদয় বিধারক দৃশ্য আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত ভ’লব না। আমি নিরাপদ সড়ক চাই এবং ঘাতক ট্রাক ড্রাইভারকে দ্রæত গ্রেফতার করে তাকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে যেন আমার মতো আর কারো বুক খালী না হয়। গত সোমবার সকাল ১১টায় হাসনাবাদের কসমো পলিটন ল্যাবটারী স্কুল এন্ড কলেজ ছুটির পর বাবার মোটরসাইকেলে নিহত শিশু আফসার ও আফরিন বাসায় ফিরছিল। তারা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের মোল্লার পুল এলাকায় আসলে পিছন থেকে একটি দ্রæতগামী লোহার রড বোঝাই একটি ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইবোন নিহত হয়।সৌভাগ্যক্রমে তাদের বাবা আহত অঅবস্থায় প্রানে বেঁচে যায়। এই ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হলেও তার ড্রাইভার এখনো পলাতক রয়েছে। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার নিহত দুই শিশুর বাবা সামসুদ্দিন ডালিম বাদী হয়ে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত আফসার ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র এবং তার বোন নিহত আফরিন একই প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল। মানব বন্ধন কর্মসুচী চলাকালে ঢাকা-মাওয়া মহসড়কে কিছু সময়ের জন্য তীব্র যাজটের সৃষ্টি হয়।