সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
দেশ ছেড়ে পালালেও স্বস্তিতে নেই সাবেক ছাত্রনেতা আবুল বসার।
নিজস্ব প্রতিবেদক
কোটা ইস্যুতে দীর্ঘ ক্ষমতানের শাসক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন। পতিত সরকারের সঙ্গে যুক্ত রাজনীতিবীদ ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় ব্যাপক দমন-পীড়ন, মব, মামলা ও দেখামাত্র গ্রেপ্তার এবং অভিযান। অনেক ক্ষেত্রে এই অভিযানের ফলে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে। আতঙ্কে দেশত্যাগ করেছেন বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নেতাকর্মীরা।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার কার্যকারী কমিটির নির্বাহী সদস্য আবুল বসার বিশ্বাস। তিনি এর আগে ২০১৬ সালের ৩০ মে ঘোষিত কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার একজন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার স্থায়ী ঠিকানা—গ্রাম: মুনির কান্দি, ডাকঘর: গোহালা, উপজেলা: মোকসুদপুর, জেলা: গোপালগঞ্জ।
তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে অনেক গুলো মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সহযোগিতায় পুলিশ প্রশাসন একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েননি।
সূত্রমতে, আবুল বসার বিশ্বাস না পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী তার পরিবারের ওপর চাপ ও নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ফলে এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের সমর্থক, নেতাকর্মীসহ অনেক সাধারণ জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে আবুল বসার বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিরোধী মত প্রকাশের স্বাধীনতাও ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। গত এক বছরে বিপুল সংখ্যক বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে আবুল বসার বিশ্বাস জানান, ২৪ এর ৫ আগষ্টের পর থেকে সারাদেশে যে তান্ডব চালিয়েছে বিএনপি জামায়ের মব বাহিনী, তারই ধারাবাহিকতায় আমার ও আমার পরিবারের উপর নির্যাতন করে আসছে।
আমি দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসতে পারলেও এখন আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে আছি মন্তব্য করে তিনি জানান দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি কররেও গ্রাম বা শহরের কোনো মানুষ বলতে পারবে না কারো সাথে বেয়াদবি করেছি, ক্ষমতার অপব্যবহারতো দূরের কথা।